সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার দাবিতে অনড় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন: “সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশনের বিষয়ে আমরা এখন নোটিশ করবো। নোটিশ করে সংসদের ভিতরেই এর সমাধান করতে চাই। কিন্তু কোন কারণে যদি সংসদে জনগণের এই প্রত্যাশার বাস্তবায়ন না পাই, তখন স্বাভাবিকভাবেই আমাদেরকে রাজপথে আন্দোলনে যেতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, বিরোধী দল অস্থিতিশীলতা চায় না বলেই সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। স্পিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নোটিশ দিতে বলায় তারা সেই ধারাবাহিকতায় এগোবেন।
বিষয়টি কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে যাবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির সাফ জানিয়ে দেন: “আমরা এটা কার্যউপদেষ্টার বৈঠকের বিষয় মনে করি না। আমরা মনে করি হাউজের বিষয়, হাউজেই এটার সমাধান হোক। তারপরে যদি তারা (সরকার পক্ষ) কথা উঠান, আমরা তখন দেখব।”
সরকার পক্ষের কোনো কোনো সদস্য সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন: “সংবিধানেতো ২০২৬ সালের ভোট ছিল না। প্রেসিডেন্সিয়াল একই অর্ডার সংবিধানের বাইরে গেলেও মানবেন, আরেক অংশ মানবেন না, না মানলে দুটোই না মানেন। মানলে দুটোই মানতে হবে। একটা কথা আছে—‘পাবলিক ওপিনিয়ন, সুপ্রিম কনস্টিটিউশন’। সেখানে গণভোটে রায় দিয়ে দিয়েছেন।”
গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, গণভোটের দাবি সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই ছিল। তফাৎ ছিল শুধু দিনক্ষণ নিয়ে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, গণভোটে দেশের মানুষ সংস্কারের পক্ষে নিরঙ্কুশ রায় দিয়েছে, তাই এটি বাস্তবায়নে গড়িমসি করার কোনো সুযোগ নেই।
এর আগে অধিবেশন চলাকালীন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সরকার তা করেনি। এই সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।