আজ রবিবার (১৫ মার্চ) সংসদ অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন শেষে সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন যে, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে সংসদকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন: “সংবিধান সংস্কার পরিষদ বিষয়ে সংসদে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আজ বিরোধী দলীয় নেতা বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। কিন্তু আমাদের আলোচনা করতে দেয়া হয়নি।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন: “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই সনদকে অবজ্ঞা করেছেন। এটিকে অসাংবিধানিক বলতে পারেন না তিনি। গণভোট মানলে আদেশ মানতে হবে। সরকারি দল গণভোট মানে কি-না, স্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি।”
তিনি মনে করিয়ে দেন যে, জুলাই সনদ কেবল একটি দলিল নয়, এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এবং বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোর রক্ষাকবচ। একে অবজ্ঞা করা মানে জনগণের ম্যান্ডেটকে অস্বীকার করা।
নাহিদ ইসলাম বর্তমান সরকারি দল বিএনপির রাজনৈতিক নীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন: “বিএনপি জয় পাওয়ার পর নির্বাচিত বিষয় গায়ের জোরে মানছে না। ৯১ সালেও বিএনপি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে, যার ফলে তারা বেশি দিন থাকতে পারেননি।”
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে তাঁদের কর্মসূচি চলমান থাকবে।
সংবিধান সংস্কার ও গণভোট নিয়ে সরকারের দ্বিধাদ্বন্দ্বের সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন: “সরকারি দল গণভোট বিনষ্টের চেষ্টা করলে জনগণ তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, আমরাও দাঁড়াবো।”
২০২৬ সালের ১৫ মার্চের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী, নবগঠিত ত্রয়োদশ সংসদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এবং তরুণ নেতৃত্বাধীন এনসিপি-র মধ্যে জুলাই বিপ্লবের আদর্শ ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে গভীর মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য সেই রাজনৈতিক সংকটেরই বহিঃপ্রকাশ।