যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম পলিটিকো (Politico)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের আগে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে গভীর কোনো বিশ্লেষণ করেনি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ইরানে সরকার পতনের জন্য হয় বিশাল স্থল অভিযান চালাতে হবে অথবা দেশজুড়ে অভাবনীয় গণবিক্ষোভ হতে হবে—যার কোনোটিরই বাস্তব লক্ষণ এই মুহূর্তে নেই। ফলে এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা অর্থহীন বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে:
যুদ্ধের মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম অন্তত ৬০ সেন্ট বেড়ে গেছে।
ট্রাম্পের প্রতিশ্রুত ‘সমৃদ্ধির স্বর্ণযুগ’ গড়ার পরিকল্পনা এখন ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির (Inflation) চাপে ধূলিসাৎ হওয়ার পথে।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বারবার বাজার শান্ত করার চেষ্টা করলেও বিনিয়োগকারীরা এখনো আশ্বস্ত হতে পারেননি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মজুত (Strategic Petroleum Reserve) থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার জরুরি নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্রটি জানিয়েছে, এই যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে বড় ধরনের মতভেদ দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রশাসন যেখানে তেলের দাম ও বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, সেখানে ইসরায়েল দাবি করছে যে—তাদের সামরিক অভিযান অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে এবং তারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। তবে ট্রাম্পের ‘এক সপ্তাহের সময়সীমা’ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপের মুখে ফেলেছে।