সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়—রাশিয়া কি সত্যিই ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করছে? জবাবে ট্রাম্প অত্যন্ত সোজাসাপ্টাভাবে বলেন: “হ্যাঁ, আমার মনে হয়, তিনি (পুতিন) সম্ভবত তাদের কিছুটা সহায়তা করছেন। সম্ভবত তিনি ভাবছেন, আমরা ইউক্রেনকে সহায়তা করছি। তারা এটা করে এবং আমরা এটা করি।”
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া তাদের স্যাটেলাইট ব্যবহার করে মার্কিন সামরিক জাহাজ ও উড়োজাহাজগুলোর নিখুঁত ভৌগোলিক অবস্থান (Coordinates) ইরানের কাছে হস্তান্তর করছে। ইরানের নিজস্ব স্যাটেলাইট সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় রাশিয়ার এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে তারা মার্কিন অবস্থানে নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে সক্ষম হচ্ছে।
যদিও ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এর আগে দাবি করেছিলেন যে, মস্কো তাঁদের আশ্বস্ত করেছে তারা তেহরানকে কোনো গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে না; কিন্তু খোদ প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে সেই আশ্বাসের অসারতা প্রমাণিত হলো।
ইরান-মার্কিন যুদ্ধ এখন তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। গত ৭ মার্চ এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প রাশিয়ার এই সহায়তার প্রভাবকে কিছুটা হালকা করে দেখিয়ে বলেছিলেন: “যদি তারা করেও, তারা খুব বেশি ভালো কাজ করছে না। ইরান খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই।”
বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট শুরুতে একে ‘সামান্য প্রভাব সম্পন্ন’ বললেও বর্তমানে সুর বদলে স্কাই নিউজকে বলেছেন, এটি একটি ‘অপরিহার্য কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক’ সিদ্ধান্ত।
ক্রেমলিন এই সুযোগকে হাতছাড়া করেনি। রাশিয়ার বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যে—রাশিয়ার তেল ছাড়া বিশ্ব জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখা অসম্ভব।