গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রাণহানির পর প্রতিশোধমূলক মিসাইল হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই যুদ্ধের প্রভাবে সম্প্রতি শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলগুলো যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে। এমন অবস্থায় ৪৮ দলের ফুটবল বিশ্বকাপ—যার একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে—তা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
সম্প্রতি রাজনৈতিক গণমাধ্যম পলিটিকো-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘পরাস্ত দেশ’ উল্লেখ করে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। তবে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, ট্রাম্পের সাথে তার আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।
ইনফান্তিনো বলেন, "আমরা ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরান দল অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে আসবে। ফুটবল বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করে—প্রেসিডেন্টের এই সমর্থন সেটিই আবার প্রমাণ করল।"
টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ইরানের জন্য এবারের সূচি বেশ রোমাঞ্চকর:
গ্রুপ: 'জি' (প্রতিপক্ষ: বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ড)।
প্রথম ম্যাচ: ১৫ জুন, প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড।
সমীকরণ: যদি ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজ নিজ গ্রুপে রানার্স-আপ হয়, তবে আগামী ৩ জুলাই 'রাউন্ড অব ৩২'-এ দেশ দুটি একে অপরের মুখোমুখি হতে পারে।
ইরানের সবগুলো ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত থাকায় খেলোয়াড় ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে। তবে ফিফা সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সকল অংশগ্রহণকারী দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, বিশ্বকাপ তা প্রশমিত করার বড় উপলক্ষ হতে পারে বলে বিশ্বাস করেন ইনফান্তিনো।