রাজধানীর বেইলি রোডের সেই অভিশপ্ত ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারির সেই বিভীষিকাময় রাতে ২০ জন পুরুষ, ১৮ জন নারী এবং ৮ জন শিশুসহ মোট ৪৬টি তাজা প্রাণ নিভে গিয়েছিল। আজ ১ মার্চ, সেই শোকাবহ ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের পরিবারগুলোর জন্য বিচার এখনো অধরাই রয়ে গেছে। মামলার তদন্তভার থানা-পুলিশের হাত ঘুরে বর্তমানে সিআইডির কাছে থাকলেও গত দুই বছরেও কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট জমা পড়েনি। আদালতের নথিপত্র বলছে, এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত সংস্থা থেকে ১৭ বার সময় নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি, ফলে আদালত আগামী ১৯ এপ্রিল নতুন দিন ধার্য করেছেন।
এই দীর্ঘসূত্রিতার সুযোগে মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জন আসামির সবাই বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন। আসামিদের তালিকায় নামী রেস্তোরাঁ ‘কাচ্চি ভাই’-এর মালিক থেকে শুরু করে ভবন মালিক ও ম্যানেজাররা থাকলেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় তাঁদের বিচারিক প্রক্রিয়া থমকে আছে। তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক শাহজালাল মুন্সী জানিয়েছেন, রাজউক এবং আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও প্রতিবেদন পেতে দেরি হওয়ার কারণেই এই বিলম্ব হচ্ছে। তাঁর দাবি, এটি একটি তথ্যচিত্র নির্ভর মামলা হওয়ায় নথিপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিনি দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে মামলার আসামিপক্ষ থেকে নিজেদের নির্দোষ দাবি করার ধারা অব্যাহত রয়েছে। ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্তোরাঁর আইনজীবীর দাবি, আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল ভবনের নিচতলা থেকে এবং তাঁদের রেস্তোরাঁর কোনো অবহেলা ছিল না। এমনকি অন্যদের উদ্ধার করতে গিয়ে তাঁদের তিনজন কর্মীও মারা গেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে ভবনের দেখভালের দায়িত্বে থাকা আসামিদের আইনজীবীরাও চাইছেন সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা হোক। মামলার মূল অভিযোগে বলা হয়েছিল, ভবনটিতে নিরাপত্তা বিধির তোয়াক্কা না করে অসংখ্য রেস্তোরাঁ ভাড়া দেওয়া হয়েছিল এবং নিচতলায় বিপুল পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার মজুত রাখা হয়েছিল। সেই রাতেই ‘চুমুক’ নামের ফাস্টফুড দোকান থেকে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মাধ্যমে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়েছিল। আজ দুই বছর পর স্বজনহারা পরিবারগুলোর কাছে এই তদন্তের ধীরগতি কেবল দীর্ঘশ্বাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।