নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে অপহরণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া এক নতুন মোড় নিয়েছে। আজ রোববার সকালে নরসিংদী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এই চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাসহ গ্রেপ্তারকৃত সাত আসামির প্রত্যেকের আট দিন করে রিমান্ড মনজুর করেছেন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের আদালতে তোলা হলে এক আবেগঘন ও নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মামলার ভয়াবহতা ও নির্মমতা বিবেচনা করে কোনো আইনজীবীই এদিন আসামিদের পক্ষে দাঁড়াননি, যা বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের নৈতিক সংহতির বার্তা দিয়েছে।
আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত পুলিশের পরিদর্শক সফি উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, পুলিশ প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে আদালত আট দিনের অনুমতি দিয়েছেন। মামলার প্রধান আসামি নূরার পাশাপাশি গ্রেপ্তারকৃতদের তালিকায় রয়েছেন এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি আহাম্মদ আলী দেওয়ান, যিনি মহিষাশুড়া ইউনিয়নের সাবেক সদস্য এবং সম্প্রতি বহিষ্কৃত এক রাজনৈতিক নেতা। এছাড়াও এবাদুল্লাহ, হযরত আলী, গাফফার, ইমরান দেওয়ান ও মো. আইয়ুবকে এই নৃশংসতার সাথে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। তবে এজাহারভুক্ত আরও দুই আসামি ইছহাক ও আবু তাহের এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার, যখন মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের একটি নির্জন শর্ষেখেত থেকে নিখোঁজ ওই কিশোরীর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ; ধর্ষণের শিকার হয়ে কিশোরীটি যখন তার বাবার সাথে বিচার চাইতে গিয়েছিল, তখন প্রকাশ্যে বাবার সামনে থেকেই তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় অভিযুক্ত নূরা ও তার সহযোগীরা। এরপর তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হয় বিলপাড়ে। এই ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন এই মামলা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, আদালতের আদেশের পরপরই আজ থেকে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কিশোরীকে ধর্ষণ ও সরাসরি হত্যার সাথে জড়িত প্রধান চারজনকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে যাতে ঘটনার মূল পরিকল্পনা এবং নেপথ্যে থাকা বাকিদের পরিচয় পরিষ্কার হয়। পুলিশ একই সাথে পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। নরসিংদীর এই ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে, যার বিচার চেয়ে এখন রাজপথ থেকে সামাজিক মাধ্যম—সবখানেই সোচ্চার মানুষ।