রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনাটি বর্তমানে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উদ্যান এলাকায় পুলিশের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের মতে, পুলিশ সদস্যরা অভিযানে গিয়ে সেখানে অবস্থানরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরিচয় জানতে চান এবং কোনো কারণ ছাড়াই চড়াও হন। এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি থেকে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
একই সময়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে আসা কয়েকজন সংবাদকর্মী ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালায় পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে যে, পুলিশ সদস্যরা সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাদের সাথে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে অনলাইন এবং অফলাইনে ঢাবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয় এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে তাৎক্ষণিকভাবে রমনা জোনের এডিসি মীর আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমের সামনে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেন। তিনি স্বীকার করেন যে, অভিযানে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করেছেন যা কাম্য ছিল না। প্রাথমিক তদন্তে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হওয়া এবং সাংবাদিকদের হেনস্তা করার অভিযোগে পুলিশের চারজন সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এডিসি নিশ্চিত করেছেন যে, এই চার সদস্যের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তবে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যেও পুলিশ তাদের মূল অবস্থান থেকে সরছে না। এডিসি আসাদুজ্জামান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকের বিস্তার রোধে তাদের এই বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। উদ্যানটিকে মাদকমুক্ত ও সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ রাখতে পুলিশ বদ্ধপরিকর, তবে ভবিষ্যতে যেন সাধারণ শিক্ষার্থী বা নিরীহ কেউ হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হবে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।