ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা আর আইনি জটিলতা ঘিরে ইদানীং বেশ কয়েকবার খবরের শিরোনামে এসেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। সর্বশেষ ব্যাংকক থেকে ফেরার পথে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ মদের বোতলসহ ধরা পড়ার একটি চাঞ্চল্যকর খবরকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। তবে অভিনেত্রী বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে জানিয়েছেন, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ:
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে বিএস-২১৮ ফ্লাইটে করে ঢাকা ফেরেন মেহজাবীন চৌধুরী। তাঁর সাথে ছিলেন স্বামী তথা নির্মাতা-প্রযোজক আদনান আল রাজীব এবং নির্মাতা শঙ্খ দাশগুপ্ত। অভিযোগ ওঠে যে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাঁদের তল্লাশি করে লাগেজ থেকে মোট ১৪ বোতল মদ উদ্ধার করে। সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় মামলা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান থাকলেও, রহস্যজনকভাবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন রাখে এবং কোনো প্রকার মুচলেকা ছাড়াই তাঁদের ছেড়ে দেয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এই খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরপরই মেহজাবীনকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
মেহজাবীনের আত্মপক্ষ সমর্থন:
শুরুতে বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে থাকায় আজ সকালে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন মেহজাবীন চৌধুরী। তিনি দাবি করেন, গত কয়েকদিন ধরে তাঁকে নানাভাবে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা চলছে। বিমানবন্দর কেন্দ্রিক অভিযোগটি অস্বীকার করে তিনি একে তাঁর মানহানি করার একটি নতুন অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন।
অভিনেত্রী তাঁর লেখায় আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "নারীরাই আজকাল সহজ টার্গেট হচ্ছে। এর পেছনে কে বা কারা আছে তা আমার জানা নেই। তবে আমি শুধু আমার কাজে ফোকাস করতে চাই।" তিনি স্পষ্ট করেন যে, ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করে তাঁর দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মান ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পূর্বের আইনি জটিলতা ও বর্তমান অবস্থান:
উল্লেখ্য যে, মেহজাবীন চৌধুরীর নামে গত বছরের নভেম্বর মাসে অর্থ আত্মসাৎ এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছিল। এই প্রসঙ্গের অবতারণা করে অভিনেত্রী আজ বলেন, সেই মামলাটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। বিজ্ঞ আদালত ইতিমধ্যে তাঁকে সেই মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন এবং সত্যের জয় হয়েছে।
মেহজাবীন বর্তমানে এই বিতর্ক পেছনে ফেলে নিজের পেশাদার কাজে মনোযোগ দিতে চান। তাঁর মতে, বারবার মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ক্যারিয়ারে বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে। তিনি চান দর্শকরা তাঁকে তাঁর অভিনয় ও কাজ দিয়েই মূল্যায়ন করুক, ব্যক্তিগত জীবনের কোনো মিথ্যা খবর দিয়ে নয়।