ঢাকা | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সমঝোতার নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা আইনি অস্পষ্টতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে 'জুলাই জাতীয় সনদে' স্বাক্ষর করতে সম্মত হয়েছে অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এনসিপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন 'যমুনা'য় গিয়ে এই ঐতিহাসিক সনদে সই করবেন।
এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি সন্ধ্যা ৬টায় যমুনায় পৌঁছাবেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন:
আখতার হোসেন (সদস্য সচিব)
জহিরুল ইসলাম মূসা (যুগ্ম সদস্যসচিব)
সারোয়ার তুষার (যুগ্ম আহ্বায়ক)
মনিরা শারমিন (যুগ্ম আহ্বায়ক)
জাবেদ রাসিন (যুগ্ম আহ্বায়ক)
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত ৪৮ দফা প্রস্তাব বাস্তবায়নে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদের দেওয়া তথ্যমতে:
মোট ভোটার উপস্থিতি: ৭ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ৫৬ জন (৬০.২৬%)।
'হ্যাঁ' ভোট: ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন (৬৮.০৬%)।
'না' ভোট: ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন (৩১.৯৪%)।
জনগণের এই বিপুল সম্মতির পরই এনসিপি সনদে সই করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যখন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, আলী রীয়াজ এবং বিএনপি-জামায়াতসহ ২৪টি দল এই সনদে সই করে, তখন এনসিপি সেই অনুষ্ঠান বর্জন করেছিল। তাদের মূল আপত্তি ছিল:
আইনি ভিত্তির অভাব: জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আইনি পদ্ধতি নিয়ে ধোঁয়াশা।
সার্বভৌম ক্ষমতার স্বীকৃতি: অভ্যুত্থানে প্রকাশিত জনগণের ‘সার্বভৌম ও গাঠনিক ক্ষমতা’র স্পষ্ট উল্লেখ না থাকা।
বাস্তবায়ন আদেশ: সনদে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ এর অনুপস্থিতি।
তবে গত ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারির পর এনসিপির উদ্বেগের জায়গাগুলো নিরসন হয়।
এখনও বাম ধারার চারটি দল (সিপিবি, বাসদ, বাসদ-মার্ক্সবাদী ও বাংলাদেশ জাসদ) ইতিহাসের সঠিক উপস্থাপনা এবং সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তনের আপত্তিতে সনদে সই করেনি। এছাড়া গণফোরামের শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও কিছু বিষয়ে মতভিন্নতার কারণে সই করা থেকে বিরত ছিলেন।
চব্বিশের অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গঠিত এই জুলাই সনদ এখন এনসিপির অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে আরও পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।